
মো. আনোয়ার হোসেন |
২০২৫ সালের ২৫ ও ২৬ সেপ্টেম্বর জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ জিমনেসিয়ামে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয় তারুণ্যের উৎসব: আন্ত;স্কুল জিমন্যাস্টিকস প্রতিযোগিতা। এ প্রতিযোগিতায় দেশের ৬৪ জেলার ৬৪টি বিদ্যালয়ের মোট ২১২ জন প্রতিভাবান জিমন্যাস্ট অংশ গ্রহণ করেন। ৩৩টি পদকের জন্যে লড়াইয়ে অংশ নেন প্রতিযোগিরা। এর মধ্যে বান্দরবান জেলার লামা উপজেলার কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজের জিমন্যাস্টরা অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখিয়ে মোট ২২টি পদক অর্জ করেন। এছাড়া এ প্রতিযোগিতায় ১১টি স্বর্ণ পদকের মধ্যে সবকটি’ই অর্জন করেন কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজের জিমন্যাস্টরা। শুধু এ প্রতিযোগিতায়ই নয়, এ জিমন্যাস্টরা জাতীয়ভাবে আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণ করে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে এ পর্যন্ত ৫৫৬টি পদক অর্জন করে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক প্রতেিযাগতিায় আরও ৩৪টি পদক জিতে দেশের জন্য সুনাম বয়ে এনেেছ তারা।
কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন কর্তৃক আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন জিমনেসিয়াম ভবন নির্মাণ ও দক্ষ প্রশিক্ষণেই এ অর্জন সম্ভব হয়েছে বলে মন্তব্য করেন, উপজেলার সরই ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ রাশেদুল হক। তিনি বলেন, জিমন্যাস্টিকদের এ অর্জনে সারাবিশে^ নতুন করে পরিচিতি লাভ করেছে বাংলাদেশ, তথাা লামা উপজেলা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ‘অলিম্পিকে সোনা আমরা জিতবই’-এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে ২০১২ সালে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজে শুরু হয় অলিম্পিকের অন্যতম জনপ্রিয়, ঐতিহ্যবাহী ও সকল খেলার জননী খ্যাত ‘জিমন্যাস্টিকস’ কার্যক্রম। এজন্য নির্মাণ করা হয় আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন জিমনেসিয়াম ভবনও। এতে জিমন্যাস্টরা প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে অত্যন্ত দক্ষ ও পারদর্শীতা অর্জন করেন, যা পরবর্তীতে দেশ ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও নিয়ে যায়। এ ধারাবাহিকতায় ২০১৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ২১৮টি স্বর্ণ পদ, ১৮৯টি রৌপ্য পদক, ১৪৯টি ব্রোঞ্জ পদকসহ জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে ৫৯০টি পদক অর্জন করেছেন কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ জিমন্যাস্টরা। শুধু তায় নয়, দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিক বাংলাদেশ জিমন্যাস্টিকস ফেডারেশনের জাতীয় কোচ চো সুং ডং এর তত্ববধানে বাংলাদেশের জাতীয় জিমন্যাস্টিকস দল উচ্চতর প্রশিক্ষণের জন্যে দক্ষিণ কোরিয়ায় অবস্থান করছেন কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজের জিমন্যাস্টরা। জাতীয় দলের জিমন্যাস্টিদের দক্ষিণ কোরিয়ায় হাইপারফরমেন্স জিমন্যাস্টিকস প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে অংশ গ্রহণের জন্য ১১ জন জিমন্যাস্টকে মনোনীত করা হয়। এদের মধ্যে ১০ জনই কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ জিমন্যাস্ট।
অনুভূতি প্রকাশ করে সেরা জিমন্যাস্ট মংচিং প্রু ত্রিপুরা বলেন, কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজে জিমনেসিয়ামের দক্ষ প্রশিক্ষন এবং সার্বিক সহযোগিতাই আমাকে সেরা জিমন্যাস্ট করেছে। আমি এ প্রতিষ্ঠানের প্রতি চিরকৃতজ্ঞ।
অপরদিকে অলিম্পিক গোইমস ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার প্রস্তুতি অংশ হিসেবে জাতীয় দলের হয়ে হাইপারফরমেন্স ক্যাম্পে অনুশীলনরত ১০জন জিমন্যাস্টের মধ্যে ৯জনই কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ জিমন্যাস্ট। জাতীয় শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক এই অর্জনগুলো কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজের ‘আমরা পারি জিমন্যস্টিকস কার্যক্রমকে পরিণত করেছে ‘বাংলাদেশে জিমন্যাস্টিকসের বাতিঘরে।
জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে ৫৯০টি পদক অর্জনের সত্যতা নিশ্চিত করেন, কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ অধ্যক্ষ ছালেহ আহমেদ। তিনি জানান, আধুনিক জিমনেসিয়াম, দক্ষ প্রশক্ষিণ ব্যবস্থা এবং সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার মাধ্যমে এ অর্জন সম্ভব হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো, মঈন উদ্দিন জানায়, লেখাপড়ার শ্রেষ্ঠত্বের পাশাপাশি খেলাধূলায় জাতীয় আন্তর্জাতিকভাবে পদক অর্জন করে চলেছে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ। এ কারণে দেশের জিমন্যাস্টিকস “বাতঘির” হিসেেেব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ জিমনেসিয়াম।