
মো. নুরুল করিম আরমান |
কারিগরী দক্ষতা এবং প্রযুক্তিগত শিক্ষার মাধ্যমে যুবসমাজকে কর্মোপযোগী করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বান্দরবান জেলার লামা পৌর শহরের টি.টি এন্ড ডি.সি এলাকায় যাত্রা শুরু করেছে‘ লামা টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট’। রবিবার (৫ জুলাই) দুপুরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আলীকদম সেনাবাহিনীর জোন কমান্ডার লে. কর্ণেল মো. আশিকুর রহমান আশিক এ ইনস্টিটিউট’র উদ্ভোধন করেন। এ উপলক্ষ্যে ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মঈন উদ্দিন’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনায় ক্যাপ্টেন তাওহীদ, ইনস্টিটিউট পরিচালনা কমিটির সভাপতি এম. রহুল আমিন, জীনামেজু কল্যাণ ট্রাস্ট্রের পরিচালক উ: নন্দমালা মহাথেরো ও পার্বত্য ভিক্ষু পরিষদের লামা উপজেলা শাখার সভাপতি জয় বংশ বিশেষ অতিথি ছিলেন।
উ. নন্দ মালা জীনামেজু কল্যাণ ট্রাস্ট্রের অধীনে পরিচালিত ইনস্টিটিউট’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে লামা প্রেসক্লাব’র সাধারণ সম্পাদক মো. কামরুজ্জামান, দাতা সদস্য থোয়াইপ্রু মং মার্মা, সমাজ সেবিকা মায়েছা মার্মা, আলীকদম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক ইয়াহিয়া আহমেদ, গজালিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক বিশ্ব নাথ দে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল হুদা লাভলু, জীনামেজু অনাথ আশ্রমের জমি দাতা মাহাবুবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
ইনস্টিটিউটে আগামী ডিসেম্বর’২৬ মাস থেকে প্রাথমিকভাবে ‘কম্পিউটার ও সেলাই’ কোর্সে চালু হবে বলে জানান পরিচালক এম. রুহুল আমিন। তিনি বলেন, লামা টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে কম্পিউটার ও সেলাই প্রশিক্ষণের সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় এলাকার যুবক যুবতীদের দক্ষতা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান এবং আত্মকর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। অনুষ্ঠানে জীনামেজু কল্যাণ ট্রাস্টের পরিচালক উ. নন্দমালা মহাথেরো ইনস্টিটিউট’র জন্য একসেট কম্পিউটার ও একটি সেলাই মেশিন প্রদান করেন। পরে ইনস্টিটিউট চত্বরে ফলজ গাছের চারা লাগিয়ে উ. নন্দমালা জীনামেজু কল্যাণ ট্রুাস্ট্রের উদ্যোগে বৃক্ষরোপন কর্মসূচির উদ্ভোধন করেন প্রধান অতিথি লে. কর্নেল মো. আশিকুর রহমান আশিক।
উদ্ভোধনী অনুষ্ঠানের আলোচনায় প্রধান অতিথি লে. কর্ণেল মো. আশিকুর রহমান আশিক বলেন, বর্তমানে সমাজ দেশ জাতি গঠনে কারিগরি শিক্ষার বিকল্প নেই, যে জাতি যত বেশি কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত সেই জাতী তত বেশী উন্নত। তাই চাকুরীর পেছনে না ঘুরে কারিগরি শিক্ষা গ্রহনের মাধ্যমে পিছিয়ে পড়া পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর ছেলে-মেয়েদের শিক্ষার মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এ লক্ষ্যে আলীকদম জোন সব সময় শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। তিনি আরো বলেন, সেনাবাহিনী মানুষের নিরাপত্তা, সম্প্রীতি, শান্তি শৃঙ্খলা ও উন্নয়নে কাজ করে চলেছে। কোন গোষ্ঠি সম্প্রীতি ও শান্তি শৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে কোন ছাড় দেওয়া হবেনা।