
আবদুর রশিদ, নাইক্ষ্যংছড়ি (বান্দরবান)।
টানা চার দিনের ভারী বর্ষণে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা, পাহাড়ধস, সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার ঘটনায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চরম দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সতর্কতা জারি করলেও দুর্ভোগ কমেনি।
উপজেলার সদর, বাইশারী, ঘুমধুম, দোছড়ি ও সোনাইছড়ি ইউনিয়নের নিচু এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। গত সোমবার দুপুরে উপজেলা সদরের আদর্শ গ্রাম এলাকায় সড়কের ওপর গাছ ভেঙে পড়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় ১২ ঘণ্টা পর বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক হলেও মঙ্গলবার সকাল থেকে আবারও উপজেলা সদর বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়ে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় মোবাইল ফোন চার্জ দেওয়া, দৈনন্দিন কাজকর্ম এবং ফ্রিজে সংরক্ষিত খাদ্য রক্ষা নিয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন বাসিন্দারা।
এদিকে, রামু-নাইক্ষ্যংছড়ি সড়কের বিভিন্ন অংশ বৃষ্টির কারণে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে বাইশারী ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে শিক্ষার্থী, রোগী, বাজারগামী মানুষ ও সাধারণ পথচারীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু সীমান্ত এলাকার কয়েকটি বাড়িতে বৃষ্টির পানি ঢুকে পড়েছে। পাশাপাশি সদর, দোছড়ি ও সোনাইছড়ি ইউনিয়নের পাহাড়ঘেঁষা এলাকায় বসবাসকারী হাজারো মানুষ পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে রয়েছেন।
এ ছাড়া টানা বর্ষণের কারণে দোছড়ি ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের লেমুছড়ি বাজার এলাকায় পাহাড়ধসে দোছড়ি-লেমুছড়ি-ক্রোক্ষ্যং সড়কের যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। সোমবার রাত প্রায় ১০টার দিকে পাহাড়ের একাংশ ধসে বিপুল পরিমাণ মাটি ও গাছপালা সড়কের ওপর এসে পড়ে। এতে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। শিক্ষার্থী, রোগী, কর্মজীবী মানুষসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য দিল মোহাম্মদ দেলোয়ার জানান, পাহাড়ধসের কারণে সড়কটি সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। দ্রুত মাটি অপসারণ করে যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
দোছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ ইমরান বলেন, ঘটনাটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং দ্রুত ব্যবস্থা নিতে সমন্বয় করা হচ্ছে।
উপজেলা এলজিইডির ইউনিয়ন সুপারভাইজার মো. পারভেজ মোশারফ বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত স্থান পরিদর্শন করে দ্রুত ধসে পড়া মাটি অপসারণ এবং সড়ক যোগাযোগ পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাসান বলেন, এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

পাহাড়ধস ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রতিটি ইউনিয়নে ট্যাগ কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মাইকিং করে সতর্ক করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে ইউনিয়ন পরিষদে আশ্রয় নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে পর্যাপ্ত খাবারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার কাজ চলছে। উপজেলা প্রশাসনের কন্ট্রোল রুম থেকে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, দুর্যোগকালীন সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক দ্রুত সংস্কার, বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা এবং পাহাড়ধসপ্রবণ এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হলে জনদুর্ভোগ অনেকটাই কমে আসবে।