1. live@www.paharerkatha.online : www.fnnews24.com www.fnnews24.com : www.fnnews24.com www.fnnews24.com
  2. info@www.paharerkatha.online : পাহাড়ের কথা :
মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:২৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
লামায় মাতামুহুরীর অব্যাহত ভাঙ্গনে বিলীনের পথে শতবর্ষী মেরাখোলা কবরস্থান, জিও ব্যাগেও ঠেকছে না ভাঙন, ভাঙ্গন রোধে ব্লক স্থাপনের দাবী এলাকাবাসীর আলীকদমে ডিজিটাল যুগেও বিচ্ছিন্ন কুরুকপাতা জেলা পরিষদে সদস্য না রাখায় ক্ষোভ, লামায় সড়ক অবরোধ করে এলাকাবাসীর মানববন্ধন লামায় প্রশাসনের অভিযান : এক ব্যবাসয়ীকে জরিমানা, বিপুল বালু জব্দ লামায় ভীমরুলের কামড়ে বৃদ্ধার মৃত্যু আজ শনিবার লামা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলী মিয়ার ১৬তম মৃত্যুবার্ষিকী লামায় বসুন্ধরা শুভ সংঘ’র প্রশিক্ষণ শেষে সেলাই মেশিন পেল ২০ অস্বচ্ছল নারী লামায় নানা আয়োজনে পালিত হলো জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী বান্দরবান জেলা পরিষদ’র নতুন চেয়ারম্যান মাম্যাচিং বান্দরবানে যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য অধিকার বিষয়ে অংশীজন কর্মশালা

বিলুপ্তির পথে পার্বত্য চট্টগ্রামের মেরিংটা (রেংমিটচা) সম্প্রদায় : নীরবে হারিয়ে যাচ্ছে একটি ভাষা, একটি জাতিসত্তা

প্রতিনিধির নাম :
  • প্রকাশিত: রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২৬
  • ১৩৮ বার পড়া হয়েছে
এম. রুহুল আমিন | 
বান্দরবান জেলার দুর্গম পাহাড়ে আজও টিকে আছে একটি ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠী, যাদের অস্তিত্বের খবর অনেকেরই অজানা। তারা মেরিংটা বা রেংমিটচা সম্প্রদায়। একসময় স্বতন্ত্র ভাষা, সংস্কৃতি ও সামাজিক পরিচয়ে সমৃদ্ধ এই জনগোষ্ঠী আজ বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে। গবেষকদের মতে, বর্তমানে তাদের মাতৃভাষায় সাবলীলভাবে কথা বলতে পারেন মাত্র কয়েকজন প্রবীণ ব্যক্তি। তাঁদের মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে পৃথিবী থেকে হারিয়ে যেতে পারে একটি ভাষা এবং একটি অনন্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য।
দুর্গম পাহাড়ে টিকে থাকার সংগ্রাম :
মেরিংটা জনগোষ্ঠীর বসবাস মূলত জেলার আলীকদম উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকায়। ক্রাংসি (Krangsi) পাড়া ও আশপাশের কয়েকটি বসতিতে তাদের বসবাসের ইতিহাস কয়েক শতাব্দীর পুরোনো বলে স্থানীয়দের ধারণা। বর্তমানে তারা বিভিন্ন পাড়ায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে বসবাস করছে। এদের অধিকাংশই বৃহত্তর ম্রো জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সামাজিকভাবে একীভূত হয়ে গেছে।
ভাষা হারালে হারাবে ইতিহাস : 
ভাষাবিদদের মতে, রেংমিটচা ভাষা বাংলাদেশের সবচেয়ে বিপন্ন ভাষাগুলোর একটি। নতুন প্রজন্ম আর এই ভাষায় কথা বলে না; তারা ম্রো ও বাংলা ভাষা ব্যবহার করছে। ফলে মাতৃভাষা পারিবারিক ব্যবহার থেকেও প্রায় হারিয়ে গেছে। ভাষা হারিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হারিয়ে যাচ্ছে লোককাহিনি, প্রবাদ, মৌখিক ইতিহাস ও প্রাচীন জ্ঞানভাণ্ডারও।
কেন বিলুপ্তির পথে : 
গবেষণা ও স্থানীয় সূত্রে কয়েকটি প্রধান কারণ উঠে এসেছে—
– অন্য জনগোষ্ঠীর সঙ্গে দীর্ঘদিনের সামাজিক মিশ্রণ।
– মাতৃভাষাভিত্তিক শিক্ষার অভাব।
– দারিদ্র্য ও কর্মসংস্থানের সংকট।
– সরকারি নথিতে ও গবেষণায় সীমিত গুরুত্ব।
– নতুন প্রজন্মের মধ্যে মাতৃভাষা ব্যবহারে অনীহা ও সামাজিক সংকোচ।
সংস্কৃতিও হারিয়ে যাচ্ছে : 
মেরিংটা সম্প্রদায়ের নিজস্ব জীবনধারা, সামাজিক রীতি, মৌখিক ঐতিহ্য ও লোকজ জ্ঞান আজ সংরক্ষণের অভাবে বিলীন হচ্ছে। প্রবীণদের স্মৃতির মধ্যেই রয়ে গেছে বহু ইতিহাস, যা এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে লিপিবদ্ধ করা হয়নি।
কী করা জরুরি :
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এখনই সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে মেরিংটা জনগোষ্ঠীর ভাষা ও পরিচয় চিরতরে হারিয়ে যেতে পারে। এজন্য জরুরি—
– ভাষার ডিজিটাল সংরক্ষণ ও অভিধান প্রণয়ন।
– মাতৃভাষাভিত্তিক প্রাথমিক শিক্ষা চালু।
– সরকারি ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে গবেষণা বৃদ্ধি।
– সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য নথিভুক্তকরণ।
– ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংবিধানিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ।
বাংলাদেশের বহুসাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ মেরিংটা বা রেংমিটচা জনগোষ্ঠী। একটি ভাষা হারিয়ে যাওয়া মানে শুধু কিছু শব্দের বিলুপ্তি নয়; হারিয়ে যায় একটি জাতির ইতিহাস, স্মৃতি, সংস্কৃতি এবং পৃথিবীকে দেখার একটি স্বতন্ত্র দৃষ্টিভঙ্গি। তাই এই ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষায় রাষ্ট্র, গবেষক, স্থানীয় সমাজ এবং নাগরিকদের সম্মিলিত উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট