বান্দরবান জেলার লামা উপজেলায় হামের প্রাদুর্ভাবে এক পরিবারের দুই ম্রো শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। মাত্র এক দিনের ব্যবধানে দুই শিশুুর মৃত্যুতে পরিবারটিতে নেমে এসেছে শোকের মাতম, আর পুরো এলাকায় শিশু অভিভাবকদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে উদ্বেগ ও আতঙ্ক।
মৃত শিশুরা হলো- সংছাই ম্রো (৭) ও মেনলেং ম্রো (১)। তারা উপজেলার রুপসীপাড়া ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ি ছলম পাড়ার বাসিন্দা মেনথক ম্রো ও চাইলে ম্রো’র ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাম আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হলে শিশু দু’জনকে প্রথমে লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাদেরকো উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসা শেষে কিছুটা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও পুনরায় তাদের অবস্থার অবনতি ঘটে। সবশেষে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সংছাই ম্রো গত বুধবার (২০ মে) ও মেনলেং ম্রো বৃহস্পতিবার (২১ মে) মারা যায়।
স্থানীয়রা জনপ্রতিনিধি আব্দুল মন্নান জানায়, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা ও টিকাদান কার্যক্রম সীমিত হওয়ায় হামের সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। এতে শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়ে গেছে। এদিকে, সম্প্রতি বান্দরবান জেলার বিভিন্ন উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় হামের প্রকোপ আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর আগে আলীকদম উপজেলায় ৭ জন এবং লামায় আরও একজনের মৃত্যু গেছে বলে জানা গেছে।
ছলম পাড়ায় হামে আক্রান্ত হয়ে এক পরিবারের দুই শিশুর মৃত্যুর সত্যতা নিশ্চিত করে শনিবার বিকালে রুপসীপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. শাহা আলম বলেন, রুপসীপাড়া ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় হামের প্রাদুর্ভাব আশঙ্কা জনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী শিশুরা এ রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। তাই ওইসব এলাকায় শতভাগ স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করা হউক।
এ বিষয়ে লামা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. গোলাম মোস্তফা নাদিম এর মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ না করে কেটে দেওয়ায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।