
নাইক্ষ্যংছড়ি প্রতিনিধি।
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দুর্গম পাহাড়ঘেরা দোছড়ি ইউনিয়নের তুলাতলী এলাকায় অবস্থিত ‘দারুন নাজাত মডেল দাখিল মাদরাসা’ ভয়াবহ কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম প্রায় বন্ধ হয়ে পড়েছে এবং শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের মধ্যে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাহাড়ি এই প্রত্যন্ত অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা সুবিধার অভাব ছিল। বিশেষ করে দ্বীনি শিক্ষার সুযোগ প্রায় না থাকায় স্থানীয় শিক্ষিত তরুণদের উদ্যোগ ও এলাকাবাসীর সহযোগিতায় ২০২৫ সালের নভেম্বরে প্রতিষ্ঠিত হয় মাদরাসাটি। অল্প সময়ের মধ্যেই এটি আশপাশের মানুষের আস্থা ও ভরসার কেন্দ্রে পরিণত হয়। বর্তমানে প্রায় ১৯০ জন শিক্ষার্থী এখানে পড়াশোনা করছে এবং পাঠদান করছেন আটজন শিক্ষক।
কিন্তু সম্প্রতি আঘাত হানা কালবৈশাখী ঝড়ে মুহূর্তেই লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় মাদরাসার অবকাঠামো। মঙ্গলবার (১২ মে) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, টিনের চাল উড়ে গেছে, বাঁশ ও কাঠের তৈরি শ্রেণিকক্ষগুলো মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। ভেঙে পড়েছে খুঁটি ও বেড়া। বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে টিনের টুকরো, কাদার মধ্যে পড়ে আছে শিক্ষার্থীদের বই-খাতা ও বেঞ্চ।
কয়েকটি কক্ষ আংশিক টিকে থাকলেও সামান্য বৃষ্টি হলেই সেগুলোতেও পানি ঢুকে পড়ছে। ফলে খোলা আকাশের নিচে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের। অনেক শিক্ষার্থী ঝুঁকি নিয়ে ভাঙা কক্ষে বসে পাঠ গ্রহণের চেষ্টা করছে, যা নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে।
মাদরাসা কর্তৃপক্ষ জানায়, দুর্যোগের পর স্থানীয় প্রশাসনসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও সামাজিক সংগঠনকে বিষয়টি অবহিত করা হলেও এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য কোনো সহায়তা পাওয়া যায়নি। দ্রুত সহায়তা না পেলে প্রতিষ্ঠানটির অস্তিত্ব সংকটে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
শিক্ষার্থীরা জানান, ঝড়ে তাদের শ্রেণিকক্ষ ভেঙে যাওয়ার পাশাপাশি বই-খাতাও নষ্ট হয়ে গেছে। বৃষ্টি হলেই পুরো মাদরাসায় পানি ঢুকে পড়ে, ফলে নিয়মিত ক্লাস করা সম্ভব হচ্ছে না। তারা দ্রুত স্বাভাবিক পরিবেশে ফিরে গিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চায়।
অভিভাবকরাও একই উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, দুর্গম এ এলাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অত্যন্ত সীমিত। বহু কষ্টে গড়ে তোলা এই মাদরাসাটি ঝড়ে ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে তারা শঙ্কিত। সরকারি সহায়তা ছাড়া প্রতিষ্ঠানটি টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয় বলেও তারা উল্লেখ করেন।
শিক্ষকরা জানান, প্রতিকূলতার মধ্যেও তারা পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের বসানোর মতো নিরাপদ শ্রেণিকক্ষ নেই। দ্রুত পুনর্নির্মাণ না হলে শিক্ষা কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
মাদরাসার পরিচালক মাওলানা মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, “এই প্রতিষ্ঠানটি ছিল এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্নের ফসল। কিন্তু এক ঝড়ে সবকিছু ধ্বংস হয়ে গেছে। আমরা বিভিন্ন দপ্তরে সহায়তার জন্য আবেদন করেছি। দ্রুত সরকারি সহযোগিতা না পেলে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”
এ অবস্থায়, অবহেলিত এই পাহাড়ি জনপদের একমাত্র নবপ্রতিষ্ঠিত দাখিল মাদরাসাটির অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ ও শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে উপজেলা প্রশাসন, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট সকলের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।