
মো. নুরুল করিম আরমান।
বান্দরবান জেলার সবচেয়ে জনগুরুত্বপূর্ণ বৃহৎ উপজেলা ‘লামা’। প্রায় আড়াই লাখেরও বেশি জনসংখ্যা অধ্যুষিত এ উপজেলায় কর্মমুখী ও কারিগরি শিক্ষার কোন সুযোগ নেই। ফলে স্থানীয় শিক্ষিত যুবসমাজ দক্ষতা উন্নয়নের অভাবে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ছিল। এমন প্রেক্ষাপটে উপজেলায় কর্মমুখী কারিগরি শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এ ধারাবাহিকতায় স্থানীয়ভাবে দীর্ঘদিনের শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের ঘাটতি পূরণে ‘লামা টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট এন্ড কলেজ’ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা ইতোমধ্যে বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে। উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ইয়াংছা এলাকার জিনামেজু অনাথ আশ্রমের পরিচালক উ. নন্দ মালা মহাথেরো ও মানবাধিকার কর্মী সাংবাদিক এম রুহুল আমিন এ উদ্যোগ নেন।
জানা গেছে, ৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার সমন্বয়ে গঠিত লামা উপজেলা। এ উপজেলায় কোন কর্মমুখী প্রতিষ্ঠান নেই। এ শিক্ষায় আগ্রহীরা কক্সবাজার না হয় চট্টগ্রাম গিয়ে ভর্তি হতে হয়। এতে আর্থিকসহ নানা সমস্যায় পড়তে হয় শিক্ষার্থীদের। এসব সমস্যার কারণে অনেকেই বেকার হয়ে পড়েন এলাকার শিক্ষার্থীরা। এদিক চিন্তা করে পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডে অবস্থিত টিটি এন্ড ডিসিস্থ বান্দরবান জেলা পরিষদের পরিত্যক্ত রেস্ট হাউজ লীজ নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি চালুর জন্য জেলা পরিষদের সাথে আনুষ্ঠানিক চুক্তি সম্পন্ন করা হয়েছে। নতুন এই প্রতিষ্ঠান স্থাপনের উদ্যোগকে স্থানীয় পাহাড়ি বাঙালী জনগোষ্ঠী অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে বলে জানান, উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান থোয়াইনু অং চৌধুরী। তিনি বলেন, এ ধরনের একটি প্রতিষ্ঠান খুবই দরকার। তাই এলাকার স্বার্থে এ প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠায় সব ধরণের সহযোগিতা করা হবে।
উপজেলা কৃষক দলের আহবায়ক মোহাম্মদ ইব্রাহিম ও জনপ্রতিনিধি জোসনা বেগম জানান, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে উপজেলায় দক্ষ জনশক্তি তৈরি হবে এবং বেকারত্ব হ্রাস পাবে। পাশাপাশি তরুণ প্রজন্ম আত্মনির্ভরশীল হওয়ার সুযোগ পাবে, যা সামগ্রিকভাবে এলাকার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রতিষ্টানের প্রতিষ্ঠাতা উদ্যোক্তা উ. নন্দ মালা মহাথের জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটি চালুর জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও কারিগরি অনুমোদন প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার লক্ষ্যে কাজ করছি। এ বিষয়ে উপজেলাবাসীর পাশাপাশি সরকারের কারিগরি শিক্ষা বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর অনুমোদন ও সহায়তা প্রয়োজন। তবেই এই সম্ভাবনাময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি বাস্তবায়ন সম্ভব।
টেকসই উন্নয়নের জন্য উপজেলায় কারিগরি শিক্ষার প্রসার অত্যন্ত জরুরি। সে দৃষ্টিকোণ থেকে ‘লামা টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট এন্ড কলেজ’ প্রতিষ্ঠার এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে বলে জানান, লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মঈন উদ্দিন।