1. live@www.paharerkatha.online : www.fnnews24.com www.fnnews24.com : www.fnnews24.com www.fnnews24.com
  2. info@www.paharerkatha.online : পাহাড়ের কথা :
সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ০৭:৩১ পূর্বাহ্ন

লামায় প্রথমবার কেন্দ্রীয়ভাবে জলকেলি উৎসব, মেতেছে হাজারো তরুণ তরুণী

প্রতিনিধির নাম :
  • প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৯৯ বার পড়া হয়েছে

মো. নুরুল করিম আরমান। 

পুরোনো বছরের গ্লানি, দুঃখ ও অপশক্তিকে ধুয়ে মুছে নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে বান্দরবানের লামা উপজেলায় প্রথমবারের মতো কেন্দ্রীয়ভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে মারমা জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী ‘জলকেলি উৎসব’। বাংলা নববর্ষ ও সাংগ্রাই উপলক্ষে শুক্রবার (২৫ এপ্রিল) বিকেলে ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের জিনামেজু অনাথ আশ্রম মাঠে এ উৎসবের আয়োজন করা হয়।
উৎসবের উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মঈন উদ্দিন। ইয়াংছা জিনামেজু অনাথ আশ্রমের পরিচালক উ. নন্দ মালা মহাথের’র সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এবং মারমা স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের আয়োজনে অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সরকারি মাতামুহুরী কলেজের সাবেক অধ্যাপক অংথিং রাখাইন, ডা. সাইনপ্লানু মার্মা, আশ্রমের দাতা সদস্য বাবু প্রুমং রাখাইন, আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক অং থোয়াইহ্লা মারমা, জমিদাতা সদস্য মো. জসিম উদ্দিনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও সাংবাদিকরা।
উৎসব উপলক্ষে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত মারমা তরুণ-তরুণীরা ঐতিহ্যবাহী পোশাকে অংশ নেন। তারা দুই লাইনে দাঁড়িয়ে পাত্রভর্তি পানি একে অপরের গায়ে নিক্ষেপ করেন। পাশাপাশি গান ও বাদ্যের তালে তালে নাচে-গানে মেতে ওঠেন অংশগ্রহণকারীরা। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয় উৎসবটি।
জনশ্রুতি রয়েছে, জলকেলি উৎসব মারমা যুবক-যুবতীদের পারস্পরিক পরিচয় ও সখ্য গড়ে তোলার এক অনন্য সুযোগ তৈরি করে। এ সময় তারা নিজেদের পছন্দের সঙ্গীও নির্বাচন করে থাকেন। উৎসবে মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী গান ও নৃত্য পরিবেশিত হয়।
মারমা নারী আনাই মার্মা বলেন, পুরনো বছরের সব দুঃখ-কষ্ট ভুলে নতুন আশা ও শুভকামনা বিনিময়ের প্রতীক হিসেবেই এ পানি উৎসব। তিনি জানান, জলকেলিতে অংশ নিয়ে সবাই আনন্দে মেতে ওঠেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মঈন উদ্দিন বলেন, সাংগ্রাই এখন শুধু মারমা সম্প্রদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি পার্বত্য অঞ্চলের সব জাতিগোষ্ঠীর সম্প্রীতির উৎসবে পরিণত হয়েছে।
জিনামেজু অনাথ আশ্রমের পরিচালক উ. নন্দ মালা মহাথের জানান, সাংগ্রাই পার্বত্য অঞ্চলের অন্যতম প্রধান ঐতিহ্যবাহী উৎসব, যা আনন্দ, ঐক্য ও নতুন বছরের বার্তা বহন করে। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ ১২ মাসের দেশ, ছয় ঋতুর দেশ এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ এই উৎসব তারই প্রতিচ্ছবি।”
উল্লেখ্য, প্রতিবছর চৈত্রসংক্রান্তি ও বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে পার্বত্য তিন জেলায় বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী নিজস্ব সংস্কৃতিতে উৎসব পালন করে থাকে। চাকমারা বিজু, মারমারা সাংগ্রাই, ত্রিপুরারা বৈসু, তঞ্চঙ্গ্যারা বিষু, রাখাইনরা চাংক্রান এবং অন্যান্য সম্প্রদায় তাদের ঐতিহ্যবাহী সামাজিক উৎসব উদযাপন করে। সাধারণত ১২ থেকে ১৪ এপ্রিল তিন দিনব্যাপী মূল উৎসব শেষে ১৫ এপ্রিল থেকে বিভিন্ন এলাকায় জলকেলির আয়োজন করা হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট