1. live@www.paharerkatha.online : www.fnnews24.com www.fnnews24.com : www.fnnews24.com www.fnnews24.com
  2. info@www.paharerkatha.online : পাহাড়ের কথা :
মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:২৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
লামায় মাতামুহুরীর অব্যাহত ভাঙ্গনে বিলীনের পথে শতবর্ষী মেরাখোলা কবরস্থান, জিও ব্যাগেও ঠেকছে না ভাঙন, ভাঙ্গন রোধে ব্লক স্থাপনের দাবী এলাকাবাসীর আলীকদমে ডিজিটাল যুগেও বিচ্ছিন্ন কুরুকপাতা জেলা পরিষদে সদস্য না রাখায় ক্ষোভ, লামায় সড়ক অবরোধ করে এলাকাবাসীর মানববন্ধন লামায় প্রশাসনের অভিযান : এক ব্যবাসয়ীকে জরিমানা, বিপুল বালু জব্দ লামায় ভীমরুলের কামড়ে বৃদ্ধার মৃত্যু আজ শনিবার লামা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলী মিয়ার ১৬তম মৃত্যুবার্ষিকী লামায় বসুন্ধরা শুভ সংঘ’র প্রশিক্ষণ শেষে সেলাই মেশিন পেল ২০ অস্বচ্ছল নারী লামায় নানা আয়োজনে পালিত হলো জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী বান্দরবান জেলা পরিষদ’র নতুন চেয়ারম্যান মাম্যাচিং বান্দরবানে যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য অধিকার বিষয়ে অংশীজন কর্মশালা

সংরক্ষিত বনের গাছ কেটে পাচার ঘটনায় মামলার জের, লামায় বন কর্মকর্তাদের মামলার হুমকি দিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগ এক বনদস্যুর বিরুদ্ধে

প্রতিনিধির নাম :
  • প্রকাশিত: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬
  • ১১৫ বার পড়া হয়েছে
লামা বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কার্যালয়

মো. নুরুল করিম আরমান | 

বান্দরবান জেলার লামা বন বিভাগের কর্মকর্তা ও গাছ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলে একের পর এক আদালতে মামলা করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় উসমান গণি নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে এ অভিযোগ তুলেন ভুক্তভোগীরা। অভিযুক্ত উসমান গণি লামা পৌরসভা এলাকার নয়াপাড়ার বাসিন্দা নুর মোহাম্মদের ছেলে। একের পর এক মামলার কারণে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন বন কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীরা।

লামা বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মো. উসমান গণি লামা বন বিভাগের আওতাধীন আলীকদম উপজেলার তৈন রেঞ্জের কাঁকড়া ঝিরি এলাকায় ২০২৫ সালের ২৯ জুন সংরক্ষিত বনের সেগুন গাছ কেটে পাচারের সময় বন বিভাগের টহল দলের হাতে ধরা পড়েন। সরকারি বনভূমিতে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করে সেগুন গাছ কর্তন ও চুরির অপচেষ্টার অপরাধে ওই দিন ওসমান গনির বিরুদ্ধে বনবিভাগ কর্তৃপক্ষ (বন মামলা নং ৪৯/তৈন অব ২০২৪-২৫) আদালতে একিিট মামলা দায়ের করে। এ মামলায় উসমান গণি দীর্ঘদিন জেলও খাটেন। বর্তমানে মামলাটি সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে। জেল থেকে বের হয়ে ক্ষুব্দ উসমান গণি গত ১৬ জুলাই বান্দরবান চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালত-৩ এ লামা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান, রেঞ্জ কর্মকর্তা কে এম কবির উদ্দিন, গাছ ব্যবসায়ী রেজাউল করিম বাবলু ও রিকশাচালক রশিদ আহমদের বিরুদ্ধে একটি মামলা (যার সি.আর. মামলা নম্বর: আলীকদম ৫৯/২০২৬) করেন। এর আগে ২০২৫ সালের ১ সেপ্টেম্বরও মিথ্যা অভিযোগ তুলে উপজেলার গাছ ব্যবসায়ী ওমর ফারুক বেচু, আব্দুল জলিল, দেলোয়ারসহ অজ্ঞাতনামা আরও তিন-চার জনের বিরুদ্ধে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট লামা চৌকি আদালতে আরও একটি মামলা দায়ের করেন উসমান গণি (সি.আর. মামলা নম্বর: ৩৫০/২০২৫)। এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন থানা পুলিশের উপ পরিদর্শক মো. সালাহ উদ্দিন। তিনি ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বও তদন্ত শেষে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, মামলার ঘটনার সত্যতা প্রমাণের সপক্ষে সুনির্দিষ্ট ও নির্ভরযোগ্য কোনো সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং অজ্ঞাতনামা বিবাদীদের নাম-ঠিকানা সর্বাত্মক চেষ্টা করেও সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। তাই তাদের মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়ার প্রার্থনা করা হয়। ফলশ্রুতিতে বিজ্ঞ আদালতের বিচারক মামলাটি খারিজ করে দেন। এয়াড়াও উসমান গণি ২০২৫ সালের ২৫ নভেম্বর তৈন রেঞ্জের কর্মকর্তা খন্দকার আরিফুল ইসলামসহ গাছ ব্যবসায়ী ও দুই শ্রমিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলে থানায় জিডি করেন।

ভুক্তভোগী রেজাউল করিম বাবলু অভিযোগ করে বলেন, এই নিয়ে উসমান গণি আমার কাছ থেকে তিন দফায় মোট ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা নিয়েছেন। টাকা নেওয়ার সময় তিনি দুইবার লিখিত অঙ্গীকারনামাও দিয়েছেন। অঙ্গীকারনামায় তিনি উল্লেখ করা হয়, আমার সাথে তাঁর কোনো দাবি দাওয়া, ক্ষোভ ও বিরোধ নেই। ভবিষ্যতে থানা বা আদালতে তিনি কোনো ধরনের মামলা-মোকদ্দমা করবেন না এবং আমাদের মধ্যে যাতে কোনো বিরোধ সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে সর্বদা সচেষ্ট থাকবেন। কিন্তু তিনি একের পর মামলা দিয়ে হয়রানির পাশাপাশি টাকা আদায় করছেন। ক্ষোভ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী গাছ ব্যবসায়ী ওমর ফারুক বেচু জানান, “উসমান গণি একজন বনদস্যু। সে সবসময় গাছ চুরির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকে। এ বিষয়গুলো আমরা সবাই জানি। তাকে অনেকবার এই অপরাধমূলক কাজ থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করা হয়েছে। কিন্তু তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে আমারসহ অসংখ্য ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলে আদালতে মামলা করে হয়রানি করছেন। আমরা তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ।

এদিকে লামা বন বিভাগের সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা কে এম কবির উদ্দিন বলেন, “আমি লামায় কর্মস্থলে যোগদান করেছি ২০২৫ সালের ৭ ডিসেম্বর। অথচ ২০২৫ সালের ৯ ডিসেম্বর উসমান আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেন, আমি নাকি ওই দিন তাকে লামা বাজার থেকে তুলে এনে মারধর করেছি। এমন একটি মিথ্যা অভিযুক্ত তুলে মামলা দায়ের করেছেন তিনি। আমি তো তাকে চিনতামই না। একটি নতুন জায়গায় যোগদানের পর সেখানকার পরিবেশ ও লোকজনকে চিনতেই তো কয়েকমাস সময় লেগে যায়। সেখানে মাত্র একদিনের মধ্যে আমি কীভাবে উসমানকে চিনব? মূলত আমাকে হয়রানি করার জন্য দুষ্কৃতকারীদের কুবুদ্ধিতে সে এই মিথ্যা ও ভিত্তিহীন মামলা দায়ের করেছেন।”

লামা বন বিভাগের তৈন রেঞ্জের কর্মকর্তা খন্দকার আরিফুল ইসলাম জানান, বন আইনে মামলা করার কারণে বনদস্যু ওসমান গণি আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। বন বিভাগের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা অভিযোগ তুলে আদালতে মামলা দিয়ে হয়রানি করে আসছেন ওসমান গনি। এই কাজে তাকে উসকে দিচ্ছেন চিহ্নিত একটি বনদস্যু চক্র। একেত বন বিভাগের জনবল সংকট, তারমধ্যে আবার এই বনদস্যু কর্তৃক একের পর এক মামলার কারণে বন রক্ষায় বিঘœ ঘটছে।

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত উসমান গণি বলেন, আমার বিরুদ্ধে বন বিভাগ মামলা দিয়েছে, তাই আমিও মামলা করেছি। তাতে কী হয়েছে? আমি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কোনো টাকা-পয়সা নিইনি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট