
মো. নুরুল করিম আরমান |
সাম্প্রতিক পাহড়ি ঢল ও পাহাড় ধসে বান্দরবান জেলার লামা উপজেলার ক্ষতিগ্রস্ত সর্বাধিক ঝুঁকিপূর্ণ ৫০০ পরিবারের মাঝে ৪০ লাখ টাকার অনুদান প্রদান করেছে বলিপাড়া নারী কল্যাণ সসিতি (বিএনকেএস)। সিডা’র অর্থায়নে সেভ দ্যা চিল্ড্রেন’র সহযোগিতায় সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে এ অনুদানের টাকা বিতরণ করা হয়। দেওয়া হয় প্রতি পরিবারকে নগদ ৮ হাজার টাকা ও হাইজিন কিটের উপকরণ। এ অনুদানের টাকা প্রদান উদ্ভোধন করেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মঈন উদ্দিন। ‘পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত সর্বাধিক ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য জরুরী মানবিক সহায়তা কার্যক্রম’র আওতায় এসব বিতরনের সময় প্রকল্পের কর্মসূচী পরিচালক পেশল চাকমা, অপারেশন এন্ড কমপ্লায়েন্স ডাইরেক্টর মেমা সিং, ফাইন্যান্স ডাইরেক্টও আবামং মার্মা ও প্রোগ্রাম ম্যনেজার ভাননুন সিয়াম বম উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে উপজেলা পরিষদ সভাক্ষে নির্বাহী অফিসার মো. মঈন উদ্দিনের সভাপতিত্বে এক প্রকল্প অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তদের উপজেলা প্রকৌশলী আবু হানিফ, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার মোহাম্মদ সোলায়মান, সমাজ সেবা কর্মকর্তা তানবীর হাসান, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা শাকিলা আক্তার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এ অবহিতকরণ সভায় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানসহ সরকারি বেসরকারী বিভিন্ন দপ্তরসহ প্রকল্পের কর্মকর্তারা অংশ গ্রহণ করেন।
অনুদানের টাকা পেয়ে অনুভূতি প্রকাশ করে পৌরসভা এলাকার বদি আলম, উ¤্রাচিং মার্মা, উলুমং মার্মা ও জান্নাতুল ফেরদৌস জানান, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড় ধসের কারণে আমাদের পরিবারের বসতঘর ভেঙ্গে গেছে। এমন কঠিন সময়ে এ বিএনকেএস’র অনুদান অনেক বড় আশীর্বাদ হয়ে এসেছে।

ক্ষতিগ্রস্ত সর্বাধিক ঝুঁকিপূর্ণদের মাঝে অনুদানের নগদ টাকা ও হাইজিন কিটের উপকরণ বিতরণের সত্যতা নিশ্চিত করে প্রকল্পের কর্মসূচী পরিচালক পেশল চাকমা বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো একটি মানবিক দায়িত্ব। এদিক চিন্তা করে দুর্যোগের পর বাড়ি বাড়ি গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত সর্বাধিক ঝুঁকিপূর্ণদের তালিকা করা হয়। এ তালিকামতে প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে লামা পৌরসভা এলাকায় ১২৫ পরিবার, লামা সদরে ৫০ পরিবার, গজালিয়া ইউনিয়নে ৫০ পরিবার, আজিজনগর ইউনিয়নে ৭৫ পরিবার, ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নে ১২৫ পরিবার ও রুপসীপাড়া ইউনিয়নের ৭৫ পরিবারের মধ্যে এ টাকা ও হাইজিন বিতরণ করা হয়। উপজেলায় বিতরণ শেষে জেলার থানচি উপজেলার বলিপাড়ায় ২০০ পরিবার ও থানচি পাড়া ২০০ পরিবারের মধ্যেও নগদ টাকা ও হাইজিন কিটের উপকরণ বিতরণ করা হবে।