
মো. নুরুল করিম আরমান |
বান্দরবান জেলার লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের কুমারী-চাককাটা সড়কের উন্নয়ন কাজ ও ব্রিজ নির্মাণে চরম অনিয়মসহ ধীরগতির অভিযোগ উঠেছে। এতে ওই এলাকার হাজার হাজার মানুষ এখন চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। সড়ক ও ব্রিজের এই অবস্থার কারণে বিশেষ করে এলাকার স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, গর্ভবতী নারী ও তীব্র অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে। কৃষিজীবী মানুষ তাদের উৎপাদিত পণ্য বাজারে নিয়ে যেতে পারছেন না, যার ফলে তারা অর্থনৈতিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। নির্মাণ কাজে নিম্মমানের নির্মাণ সামগ্রী ও বালুর পরিবর্তে পাহাড়ের মাটি ব্যবহার করার কারনে এ অবস্থার সৃস্টি হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
জানা যায়, গত অর্থ বছরে সড়ক ও ব্রিজ সংস্কারের জন্য নতুন করে দরপত্র (টেন্ডার) আহবান করে এলজিইডি। দরপত্রে ঠিকাদার মেহেদী হাসান কাজটি পায়। কয়েক মাস আগে ঠিকাদার কাজ শুরু করার জন্য কুমারী স্কুলপাড়া এলাকার পুরনো ও সচল ব্রিজটি ভেঙে ফেলে। এরপর পুরাতন ব্রিজটি ভেঙে রড, ইট ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী বিক্রিও করে দেন ঠিকাদার। কাজে নিম্মমানের নির্মাণ সামগ্রী ও বালুর পরিবর্তে পাহাড়ের মাটি ব্যবহার করা হয়। শুধু তায় নয়, নতুন ব্রিজ নির্মাণ না করে কাজ ফেলে রাখায় বর্তমানে সামান্য বৃষ্টি হলেই পাহাড়ি ঢল ও পানির তোড়ে যাতায়াত সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। স্থানীয়রা নিজেদের উদ্যোগে কোনোমতে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে একটি নড়বড়ে সাঁকো তৈরি করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন। তাই এলাকাবাসীর প্রশ্ন, কাজ যদি নাই করা হবে, তবে সচল পুরাতন ব্রিজটি ভেঙে ফেলার কি প্রয়োজন ছিল ?
সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, সড়কের চলমান ম্যাকাডাম (খোয়া বিছানোর) কাজ মাঝপথে বন্ধ থাকায় সাম্প্রতিক বর্ষায় সড়কটি এখন সম্পূর্ণ কাদামাটিতে পরিণত হয়েছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত ও নালা তৈরি হয়েছে। কোনো ধরনের যানবাহন তো দূরের কথা, সাধারণ মানুষের পায়ে হেঁটে চলাচলের উপায়ও নেই। এছাড়া ব্রিজ ভেঙ্গে ফেলার কারণে ওই অংশ দিয়ে চলাচল সম্পুর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে।
চরম ভোগান্তির সত্যতা নিশ্চিত করে চাককাটা গ্রামের বাসিন্দা বেলাল হোসেন, শহিদুল ইসলাম ও জাহাঙ্গীরসহ অনেকে জানান, ঠিকাদার মেহেদী হাসান কাজ অসমাপ্ত রেখে গায়েব হয়ে যায়। বারবার যোগাযোগ করেও কোনো সুরাহা পাননি। এই বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ আরও কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ায় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।

সংশ্লিষ্ট এলজিইডি কর্তৃপক্ষ এবং ঊর্ধ্বতন প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়ে ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারমান মো. জাকির হোাসেন মজুমদার জানায়, অতি দ্রুত এই জনগুরুত্বপূর্ণ কুমারী-চাককাটা সড়কের কাজ পুনরায় শুরু করে ব্রিজটি নির্মাণ করা হোক। এছাড়া শতশত মানুষকে চরম ভোগান্তিতে ফেলার কারণে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ঠিকাদার মেহেদী হাসান জানায়, বর্ষার আগে ৭০ভাগ কাজ শেষ করেছিলাম। শুধু মাত্র কার্পেটিং বাকি ছিল। প্রবল বর্ষণের কারণে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। দ্রুত কাজ শুরু করা হবে বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের লামা উপজেলা প্রকৌশলী আবু হানিফ বলেন, বিষয়টি আমি জেনেছি। ঠিকাদারের সাথে যোগাযোগ করা হচ্ছে। জনভোগান্তি দূর করতে দ্রুত কাজ শুরু করে ব্রিজ ও সড়ক নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা হবে।