1. live@www.paharerkatha.online : www.fnnews24.com www.fnnews24.com : www.fnnews24.com www.fnnews24.com
  2. info@www.paharerkatha.online : পাহাড়ের কথা :
শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৩২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
লামায় দৈনিক কালবেলা’র প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন লামায় বৌদ্ধ ধর্মীয় প্রবারণা পূর্নিমায় সরকারি খাদ্যশস্য বরাদ্দ তালিকা প্রণয়নে অনিয়মের অভিযোগ লামায় নিখোঁজ তিন স্কুলছাত্রী ৫দিন পর চট্টগ্রাম থেকে উদ্ধার লামায় নানা আয়োজনে আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস পালন লামায় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সমাজসেবক শফিকুল ইসলাম’র উপহার সামগ্রী পেল ১০০ হিন্দু পরিবার লামায় নানা আয়োজনে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত লামায় ইউএনও মঈন উদ্দিনকে বিদায় সংবর্ধণা লামায় এবার ১০ মন্ডপে হবে দূর্গাপুজা: কেন্দ্রীয় মন্ডপের বিশেষ আকর্ষণ ‘মায়ের আরতি প্রতিযোগিতা’, প্রশাসনের কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা লামায় নানা আযোজনে জাতীয় কন্যাশিশু দিবস পালিত এনসিপি’র লামা পৌর শাখার আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন

লামায় নদী ও ঝিরি ভাঙ্গনে বিলীনের পথে সনাতন ধর্মালম্বীদের একমাত্র শশ্মান, ভাঙ্গন রোধে রিটার্নিং ওয়াল নির্মাণের দাবী

প্রতিনিধির নাম :
  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬
  • ১০১ বার পড়া হয়েছে
লামায় হিন্দু ধর্মালম্বীদের শশ্মান ভাংগনের একাংশ।

মো. নুরুল করিম আরমান | 
বান্দরবান জেলার লামা পৌর শহরের হাসপাতাল পাড়া এলাকার শত বছরের পুরনো একমাত্র শশ্মানটি এখন বিলীনের পথে। একদিকে মাতামুহুরী নদী অন্যদিকে পাহাড়ি নুনার ঝিরির ভাঙনের কবলে পড়ে দিনে দিনে সংকুচিত হয়ে আসছে এই শশ্মানটি। নানা সমস্যায় জর্জরিত হয়ে পৌর এলাকার প্রায় ৬০০ পরিবারের শেষকৃত্যের একমাত্র নির্ভরযোগ্য স্থান এ শশ্মানটি এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে। তাই পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ ও পৌর প্রশাসকের নিকট রিটার্নিং ওয়াল নির্মাণের মাধ্যমে ভাঙন রোধসহ শশ্মান সংস্কারের দাবী জানিয়েছেন সনাতন ধর্মালম্বীরা।
সূত্র জানায়, ১০০ বছর আগে মাতামুহুরী নদীর পাড় ও নুনার ঝিরির শেষ প্রান্তে ৪০ শতক জায়গায় উপর স্থাপিত হয় লামা কেন্দ্রীয় শশ্মান। শুরু থেকে পৌরসভা এলাকায় আর কোন শশ্মান না থাকায় সনাতন ধর্মালম্বীদের মৃতদের লাশ দাহে এটিই একমাত্র ভরসাস্থল। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুম এলেই নুনার ঝিরি ও মাতামুহুরী নদীর পানি ¯্রােতের টানে পাড় ভাঙন দেখা দেয়। আবার পানি কমতে থাকলেও একইভাবে ভাঙতে থাকে। শশ্মানের বেশিরভাগ অংশ ইতোমধ্যে নদীগর্ভে চলে গেছে। বার বার বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে যে কোনো সময় শশ্মানটির বাকি অংশটুকুও নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। শুধু তায় নয়, দীর্ঘদিন ধরে এ শশ্মানটি সংস্কার না করায় বর্তমানে লাশ দাহের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এছাড়া লাইটিং ব্যবস্থা না থাকায় রাতে ভূতুড়ে পরিবেশ সৃষ্টির পাশাপাশি পরিণত হয় নেশা খোরদের আড্ডাখানা।
সরেজমিনে জানা যায়, শশ্মান এলাকায় ঝিরির পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে তীব্র ভাঙন দেখা দেয়। মৃত মানুষের দাহ ও সমাধি করার জায়গায় নদীর পানি উঠে যায়। শশ্মানের ঘরেও নদীর পানি ঢুকে পড়ে। ঝিরি ও নদী ভাঙ্গনে ইতোমধ্যে বিলীন হয়ে গেছে শত শত সমাধিস্থলও। লাইটিং ব্যবস্থা না থাকায় রাতে লাশ দাহ করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। ইতিমধ্যে নেশা খোররা শশ্মানটিকে আড্ডাখানায়ও পরিণত করেছে। মোট কথা শত বছরের পুরোনো এ শশ্মানটি দীর্ঘ বছর সংস্কার করা হচ্ছেনা।
এ বিষয়ে লামা কেন্দ্রীয় শশ্মান পরিচালনা কমিটির সভাপতি অলক কান্তি চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক বাসু কর্মকার এক সূরে বলেন, আমরা ছোট থেকেই এলাকার বৃদ্ধদের কাছে শুনেছি, প্রায় ১০০ বছর আগে এই শশ্মানটি স্থাপিত হয়েছিল। এটি প্রতিবছরই ভাঙে। ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে শশ্মানের ৪০ শতক জায়গার মধ্যে একন ১৫ শতকের মত আছে। আগামী বর্ষার আগে শশ্মানের উত্তর ও পূর্ব পাশে ২০০ ফুট রিটার্নিং ওয়াল নির্মাণ করা জরুরী হয়ে পড়েছে। রিটার্নিং ওয়াল নির্মান করা না হলে আগামী বর্ষায় বাকিটুকুও বিলীন হয়ে যাবে। তারা আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এ শশ্মানটি সংস্কার করা হচ্ছে। বাউন্ডারী ওয়াল না থাকায় রাত দিন নেশা খোরদের আড্ডা খানায় পরিণত হয় শশ্মানটি। লাইটিং ব্যবস্থা না থাকায রাতে কেই মারা গেলে লাশ দাহ করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। তাই প্রশাসনের নিকট শশ্মানটির নিরাপত্তায় বাউন্ডারী ও ভাঙ্গন রোধে রিটার্নিং ওয়াল নির্মাণসহ লাইটিং ব্যবস্থা ও একটি লাশ ঘর নির্মানের জোর দাবী জানাচ্ছি।
এদিকে ক্ষোভ প্রকাশ করে লামা বাজার ছোট নুনারবিল পাড়ার এলাকার বাসিন্দা খগেশ প্রতি চন্দ্র খোকন বলেন, “আমাদের পূর্বপুরুষের স্মৃতি জড়িয়ে আছে এই শ্মশানের সাথে। এখানে আমাদের ধর্মীয় রীতি মেনে শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়। এখন সেটাই হারানোর পথে। তিনি আরও বলেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। তাই দ্রুত শ্মশান রক্ষার জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।
জানতে চাইলে প্রবীণ সনাতন ধর্মালম্বী অমর কান্তি চৌধুরীর বলেন, জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে শুধু শশ্মানই নয়, আশপাশের বসতবাড়িও হুমকির মুখে পড়বে। তাই দেরি না করে দ্রুত স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নেওয়া হোক, যাতে শত বছরের পুরনো শশ্মানটি রক্ষা পায় এবং ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে কোনো বিঘœ না ঘটে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌরসভার প্রশাসক মো. মঈন উদ্দিন জানান, লামা কেন্দ্রীয় শশ্মান ঝিরিতে বিলীনের বিষয়ে কেউ জানায়নি। তবে পৌর প্রকৌশলীর মাধ্যমে বিস্তারিত জেনে শশ্মান ভাঙ্গন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 ১২৩৪
৫৬৭৮৯১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট