বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় পার্বত্য জেলা পরিষদের অধীন রেস্ট হাউজের পুরাতন ভবন সংস্কার প্রকল্পে বড় ধরনের অনিয়ম ও অর্থ অপচয়ের অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ২০ লাখ টাকা বাজেটের এই প্রকল্পে কাগজে-কলমে কাজ প্রায় শেষ দাবি করা হলেও, বাস্তবে মিলেছে নামমাত্র মেরামতের চিত্র। মূল ভবনের বড় কোনো পরিবর্তন না করেই পুরো বাজেট খরচের পাঁয়তারা চলায় প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও কাজের মান নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন মাস আগে দরপত্রের মাধ্যমে জরাজীর্ণ রেস্ট হাউজটির সংস্কার কাজ শুরু করে ‘এ কে এস এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তবে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভবনটির মূল কাঠামো, ছাদ, মেঝে কিংবা বৈদ্যুতিক ব্যবস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ অংশে বড় কোনো হাতই দেওয়া হয়নি।
২০ লাখ টাকার মতো বিশাল বাজেটের বিপরীতে পুরো ভবনে দৃশ্যমান কাজের তালিকা অত্যন্ত নগণ্য। কাজের মধ্যে দৃশ্যমান ছিলো ভবনের পেছনের অংশে সামান্য কিছু প্লাস্টারের কাজ, বাথরুমগুলোতে নতুন প্লাস্টিকের দরজা স্থাপন, মূল গলিতে নিরাপত্তাবেষ্টনী হিসেবে গ্রিল লাগানো ও কয়েকটি জানালায় থাই গ্লাস সংযোগ
প্রকল্পের বাস্তবায়ন ও বর্তমান অবস্থা নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্যে স্পষ্ট অসঙ্গতি ও সমন্বয়হীনতা ফুটে উঠেছে।
প্রকৌশলী মং মারমা জানান, রেস্ট হাউজের দায়িত্বে থাকা এই প্রকৌশলী দাবি করেন, ২০ লাখ টাকার কাজের বড় অংশই শেষ। কেবল নিচতলার বাথরুমের টাইলস ও সোলার প্যানেল বসানোর কাজ বাকি রয়েছে।
ঠিকাদার মো. আজাদ: এ কে এস এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী জানান, “কাজ এখনো শেষ হয়নি। বাকি কাজ শেষে আগামী মঙ্গলবার সোলার প্যানেল বসানো হবে। আমরা এ পর্যন্ত মাত্র ১ শতাংশ বিল পেয়েছি।”
জেলা পরিষদ সদস্য সাইফুল ইসলাম রিমন জানান “কাজের ৫০ শতাংশও শেষ হয়নি। আমি নিজেও ঠিকাদারকে খুঁজছি, কিন্তু তাকে পাওয়া যাচ্ছে না।”
স্থানীয় পর্যায়ে জোর গুঞ্জন রয়েছে, জেলা পরিষদ সদস্য সাইফুল ইসলাম রিমনের ভাই নেপথ্যে থেকে এই ঠিকাদারি কাজ পরিচালনা করছেন। তবে রিমন নিজে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। একই সঙ্গে প্রকৌশলী মং মারমা এবং ঠিকাদার আজাদও দাবি করেছেন, এই কাজের সাথে জেলা পরিষদ সদস্যের ভাইয়ের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
পুরাতন ভবনে সামান্য জোড়াতালি দিতে ২০ লাখ টাকা বরাদ্দের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আলীকদমের সাধারণ বাসিন্দারা। তাদের মতে, এত টাকা দিয়ে জোড়াতালি না দিয়ে নতুন একটি ভবন নির্মাণ করা হলে সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার হতো।
স্থানীয় সচেতন মহল অবিলম্বে এই প্রকল্পের প্রাক্কলন (Estimate), ড্রয়িং-ডিজাইন ও বাস্তবে সম্পাদিত কাজের সঠিক কারিগরি পরিমাপের জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
উত্তাপিত অভিযোগ ও প্রকল্পের বিষয়ে জানতে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের নির্বাহী প্রকৌশলী লেলিন চাকমার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
উপদেষ্টা সম্পাদক : সাংবাদিক প্রিয়দর্শী বড়ুয়া, সম্পাদক : মো. নুরুল করিম আরমান, আইন সম্পাদক : ফয়সাল আজিজ
কার্যালয় : লামা প্রেসক্লাব ভবন (২য় তলা), প্রধান সড়ক, লামা পৌরসভা, লামা, বান্দরবান পার্বত্য জেলা, মোবাইল : ০১৭৫০৪৪৪৯৯৬.
ই-মেইল : paharerkatha@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত