লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধি |
বান্দরবান জেলার লামা উপজেলায় মৃত স্বামীর রেখে যাওয়া জমিতে কবরস্থান তৈরির নামে জবর-দখল চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার গজালিয়া ইউনিয়নের সাফমারা ঝিরির বাসিন্দা মৃত ওযাহেদ আলীর স্ত্রী জাহানারা বেগম (৫৮) সাফমারাঝিরি স্টেশন জামে মসজিদ কমিটির বিরুদ্ধে এ অভিযোগ তুলেন। এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগও দায়ের করেন ওই বিধবা নারী।
অভিযোগে জানা যায়, উপজেলার গজালিয়া ইউনিয়নের ৩০৫নং গজালিয়া মৌজার আর/৩৫ নং হোল্ডিং মূলে ৩ একর জমি জাহানারা বেগমের মৃত স্বামী ওয়াহেদ আলীর নামে রেকর্ডভুক্ত আছে। উত্তরাধিকার সূত্রে এ জমির মালিক হয়ে বিধবা জাহানারা বেগম দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছেন। সম্প্রতি ওই জমি থেকে তিনি ৮ শতক স্থানীয় সাপমারাঝিরি স্টেশন জামে মসজিদের নামে দানের পাশাপাশি বাকি অংশে সেগুন ও কলা বাগান সৃজন করেন।
অভিযোগ উঠেছে, মসজিদ কমিটির লোকজন কবরস্থান তৈরির জন্য অতিরিক্ত ২০ শতক জমি দাবি করে আসছিল। জমি দিতে রাজি না হওয়ায় গত ২৯ মে শুক্রবার রাত ১টার দিকে মসজিদ কমিটির সদস্য মোহাম্মদ নবী, রাশেদ কামাল, ইব্রাহিম খলিল জুয়েল, মো. নজরুল ইসলাম ও আব্দুল গণিসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জন ব্যক্তি এক্সক্লেভেটর গাড়ি নিয়ে জোরপূর্বক তার জমিতে প্রবেশ করেন। এ সময় মসজিদ কমিটির লোকজন বাগানের সেগুন গাছ ও কলার চারা উপড়ে ফেলে প্রায় ২০ হাজার টাকার ক্ষতি সাধন করেন। এতে বাঁধা দিলে জাহানারা বেগমকে তারা ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেন ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
বিধবা জাহানারা বেগম বলেন, “মসজিদের জন্য ৮ শতক জমি দান করেছি। এখন কবরস্থানের নাম করে তারা আমার স্বামীর অবশিষ্ট জমিটুকুও জবর-দখল করতে চাইছে। প্রতিবাদ করায় তারা আমাকে মেরে লাশ মাটিতে পুঁতে ফেলার হুমকি দেয়। এমনকি আইনি ব্যবস্থা নিলে রাস্তাঘাটে আমাকে ও আমার পরিবারের সদস্যদের মারধরের ভয় দেখাচ্ছে অভিযুক্তরা। আমি এখন চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছি।
জাহানারা বেগমের বড় ছেলে আব্দুর রশিদ জানান, এলাকার মানুষের অনুরোধে তারা মসজিদের জন্য ৮ শতক জমি দান করলেও কবরস্থানের জন্য আর জমি দেওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। এরপরও স্থানীয় প্রভাবশালীরা জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা চালাচ্ছেন।
তবে হুমকি ও ধাক্কা মারার ঘটনা সত্য নয় বলে দাবী করে অভিযুক্ত সাপমারাঝিরি স্টেশন জামে মসজিদের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম বলেন, এটি একটি সামাজিক বিষয়। সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ নিয়ে বসে আমরা আলোচনার মাধ্যমে এর সমাধান করব। তবে যদি কোনো আইনি জটিলতা তৈরি হয়, তবে আমরা আইন মেনেই তার মোকাবিলা করব।
এ বিষয়ে লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মঈন উদ্দিন জানান, বিধাব জাহানারা বেগমের অভিযোগটি পেয়েছেন। সত্যতা যাচাই-বাছাই করে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
উপদেষ্টা সম্পাদক : সাংবাদিক প্রিয়দর্শী বড়ুয়া, সম্পাদক : মো. নুরুল করিম আরমান, আইন সম্পাদক : ফয়সাল আজিজ
কার্যালয় : লামা প্রেসক্লাব ভবন (২য় তলা), প্রধান সড়ক, লামা পৌরসভা, লামা, বান্দরবান পার্বত্য জেলা, মোবাইল : ০১৭৫০৪৪৪৯৯৬.
ই-মেইল : paharerkatha@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত