অনুসন্ধানে জানা গেছে, ‘বান্দরবান পৌরসভা এবং বান্দরবানের তিনটি উপজেলা সদরসহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্পে ২০২২ সালে সরকারের ব্যয় ধরা হয় ৪৪ কোটি ২৫ লাখ ১০০ টাকা।
সরেজমিনে অনুসন্ধানে প্রকল্পের ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিটি প্রকল্পের জন্য ২ কোটি ৭১ লাখ বা তার কাছাকাছি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের যোগসাজশে দফায় দফায় ভূমি অধিগ্রহণ, নকশা পরিবর্তন ও রিভাইস দেখিয়ে বরাদ্দ বাড়াতে থাকেন। বর্তমানে নাইক্ষ্যংছড়ি প্রকল্পটির পেছনে প্রায় ৯ কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে।
সরেজমিনে প্রকল্প এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত পানি শোধনাগারগুলো এখন পরিত্যক্ত রয়েছে। গেটে ঝুলছে তালা। কোনো কোনোটির যন্ত্রপাতি ও পাইপলাইনে ইতোমধ্যে জং ধরতে শুরু করেছে।
নাইক্ষ্যংছড়ির স্থানীয় বাসিন্দা আইয়ুব, শহীদ, শাহাব উদ্দিন, থানচি টিঅ্যান্ডটিপাড়ার বাসিন্দা মামুনুর রশিদ, ইদ্রিসসহ স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মানুষকে পানির স্বপ্ন দেখিয়ে সরকারের কোটি কোটি টাকা লুটপাট করা হয়েছে। পাঁচ বছর পার হয়ে গেলেও নানা অজুহাতে এখনো পানির সংযোগ দেওয়া হয়নি।
সিন্ডিকেটগুলো শুরুতে প্রকল্পের বাজেট কম দেখিয়ে, দরপত্র আহ্বান করে। অন্য প্রতিযোগীরা বাদ পড়ে গেলে এবং সিন্ডিকেট কাজটি বাগিয়ে নেওয়ার পর শুরু হয় আসল খেলা। পরে কাজ যত দীর্ঘায়িত হয়, রিভাইস করার সুযোগ তত বাড়ে।
অনুসন্ধানে জেলার অধিকাংশ বড় বড় উন্নয়ন কাজের পেছনে নির্দিষ্ট কয়েকটি লাইসেন্সের নাম বারবার ঘুরে-ফিরে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে, রতন সেন, মি. ইউটি মং, মার্মা এন্টারপ্রাইজ, শিবলী এন্টারপ্রাইজ, কামাল হোসেন ইত্যাদি। জেলায় জনস্বাস্থ্যের সিংহভাগ কাজই এসব লাইসেন্স ও হাতেগোনা কয়েকজন চক্রের নিয়ন্ত্রণে থাকে।
জানা গেছে, সম্প্রতি বান্দরবান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে প্রায় ১০ কোটি টাকার তিনটি গ্রুপে উন্নয়ন কাজের টেন্ডারেও অনিয়ম ও তথ্য ফাঁসের অভিযোগ উঠেছে।
অনিয়মের আশ্রয় নেওয়া এই প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে ছয় কোটি টাকা ব্যয়ে টিউবওয়েলসহ পানি রিজার্ভার নির্মাণ, ১ কোটি ১০ লাখ টাকায় সাতটি উপজেলায় সাতটি জিএফএস (গ্রাভিটি ফ্লো সিস্টেম) প্রকল্প এবং ২ কোটি ৭০ লাখ টাকার টিউবওয়েল স্থাপন কাজ।
এদিকে প্রকল্পগুলোর নানাবিধ অসংগতি ও সুনির্দিষ্ট দুর্নীতির বিষয়ে তথ্য জানতে নাইক্ষ্যংছড়ি ও থানচি উপজেলার সহকারী প্রকৌশলীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে, তারা তথ্য না দিয়ে নানাভাবে বিষয়টি এড়িয়ে যান।
এই প্রতিবেদকের প্রশ্নের জবাবে থানচির কর্মকর্তা স্বপন চাকমা জানান, মাঠে শুধু কাজ তদারকি করা ছাড়া অন্য কোনো তথ্য বা নথিপত্র জানার সুযোগ আমাদের নেই।
অন্যদিকে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী শাহ আজীজের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ভূমি অধিগ্রহণ সমস্যা ছিল প্রথমে, পরে প্রকল্পের কিছু মালামাল চুরি হয়। যার কারণে কাজটি উদ্বোধন করা যায়নি। ভূমি অধিগ্রহণসহ প্রায় ৯ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে তার এলাকার প্রকল্পটিতে।
এ বিষয়ে বান্দরবান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট নির্বাহী প্রকৌশলী অনুপম দে বলেন, ভূমি অধিগ্রহণসহ নানা সমস্যার কারণে প্রকল্পগুলো উদ্বোধন করা যায়নি। সূত্র-দৈনিক আমার দেশ।
উপদেষ্টা সম্পাদক : সাংবাদিক প্রিয়দর্শী বড়ুয়া, সম্পাদক : মো. নুরুল করিম আরমান, আইন সম্পাদক : ফয়সাল আজিজ
কার্যালয় : লামা প্রেসক্লাব ভবন (২য় তলা), প্রধান সড়ক, লামা পৌরসভা, লামা, বান্দরবান পার্বত্য জেলা, মোবাইল : ০১৭৫০৪৪৪৯৯৬.
ই-মেইল : paharerkatha@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত